বিশ্বব্যাপী উড়োজাহাজ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন। এর সঙ্গে রয়েছে বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ এবং দ্রুতগতির ভ্রমণের নতুন নতুন পরিষেবা। উড়োজাহাজ শিল্পের এ রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক কোম্পানি জেট জিরো। উড়োজাহাজের উদ্ভাবনী নকশা নিয়ে কোম্পানিটি ডেল্টা এয়ারলাইনসের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। তাদের অংশীদারত্বে তৈরি হচ্ছে ‘ব্লেন্ডেড উইং’ ডিজাইনের আকাশযান। নতুন ডিজাইনের এ উড়োজাহাজে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী হবে। পরিকল্পনা অনুসারে, ২০২৭ সাল নাগাদ প্রথমবারের মতো উড্ডয়ন করবে এ উড়োজাহাজ। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ঠিকঠাক এগোলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক পরিষেবায় যুক্ত হবে ব্লেন্ডেড উইং জেট। অবশ্য নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অন্যরাও পিছিয়ে নেই। বুম কোম্পানির এক্সবি ওয়ান সুপারসনিক উড়োজাহাজ সম্প্রতি সফলভাবে শব্দের বেগ অতিক্রম করেছে। ২০২৯ সালের মধ্যে যাত্রীবাহী সুপারসনিক ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে এ উদ্ভাবন। অন্যদিকে এয়ারবাস ও চেইস লংগু যৌথভাবে ডাবল-লেভেল এয়ারপ্লেন সিট ডিজাইন নিয়ে গবেষণা করছে, যা ভবিষ্যতে উড়োজাহাজের আসন বিন্যাসে পরিবর্তন আনতে পারে। উড়োজাহাজ শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রাখছে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও নতুন নির্মাণ। বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম দ্বীপ বিমানবন্দর ডালিয়ান জিনঝো বে ইন্টারন্যাশনাল নির্মাণ করছে চীন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে লন্ডন হিথ্রো তৃতীয় রানওয়ে প্রকল্পটি অবশেষে সরকারি অনুমোদন পেয়েছে, যার লক্ষ্য ইউরোপে বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো। প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন দ্রতগতিতে চললেও উড়োজাহাজ শিল্পের সীমাবদ্ধতা রয়েছে কিছু্। প্যারিসের কাছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বিশাল অবিস্ফোরিত বোমা পাওয়ায় ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ইউরোস্টার ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় গত শুক্রবার। এ কারণে অনেকে বিকল্প পথের চিন্তা করছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক আকাশ দুর্ঘটনার কারণে যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। যে কারণে উড়োজাহাজ চালক ও বিশেষজ্ঞরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার আহ্বান জানাচ্ছেন। খবর সিএনএন